
ইসরায়েলকে সমর্থনের প্রতিবাদ: মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার পদত্যাগের চিঠি
সুত্র:. সিএনএন
পঙ্ক্তি আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা পদত্যাগের চিঠি লিখেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব ডেমোক্রেসি, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড লেবারের পররাষ্ট্র বিষয়ক কর্মকর্তা অ্যানেল শেলাইন। জানা যায়, ফিলিস্থিনের গাজায় চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সমর্থনের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন শেটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা।
২৭ মার্চ বুধবার অ্যানেল শেলাইন নামের এই কর্মকর্তা পদত্যাগের ঘোষণা দেন। একটি খোলাচিঠিতে পদত্যাগের কারণও তুলে ধরেছেন ৩৮ বছর বয়সী ওই নারী কর্মকর্তা। শেলাইন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুই বছরের চুক্তিতে নিয়োগ পান। তিনি ব্যুরো অব ডেমোক্রেসি, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড লেবারের পররাষ্ট্রবিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। চাকরির ে মেয়াদের মাঝামাঝিতে এসে পদত্যাগ করলেন তিনি।
শেলাইনের খোলাচিঠি: কী আছে খোলা চিঠিতে
শেলাইনের খোলাচিঠিটি সিএনএনের মতামত বিভাগে প্রকাশিত হয়েছে। ওই চিঠির কিছু অংশের ভাষান্তর নিচে তুলে দেওয়া হলো:
গত ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণের পর থেকে গাজায় যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি বোমা ব্যবহার করে আসছে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ যুদ্ধে ৩২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, তাঁদের ১৩ হাজারই শিশু। এ ছাড়া বহু মানুষের মরদেহ ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্থ বাড়িঘর ও স্থাপনার নিচে পড়ে আছে। খাদ্য অধিকার সম্পর্কিত জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ারের মতে, গাজার বেঁচে থাকা ২০ লাখ মানুষকে অনাহারে রাখার জন্য ইসরাযয়েল নিশ্চিতভাবেই অভিযুক্ত। দাতব্য সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের একটি দল সতর্ক করে বলেছে, পর্যাপ্ত ত্রাণসহায়তা না পেলে আরও হাজারো মানুষের নাম শিগগিরই মৃত মানুষের তালিকায় যোগ হবে। এরপরও ইসরায়েল এখনো রাফায় অভিযানের পরিকল্পনা করে যাচ্ছে, যেখানে গাজার অধিকাংশ মানুষ পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলে আসছেন, সেখানে যে হত্যাযজ্ঞের আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেটা হবে ‘কল্পনাতীত’।
পশ্চিম তীরে সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারী ও ইসরায়েলি সেনারা মার্কিন নাগরিকসহ ফিলিস্থিনিদের হত্যা করে আসছেন। গণহত্যাবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব কর্মকান্ড গণহত্যার অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। আর মার্কিন সরকারে কূটনৈতিক ও সামরিক সমর্থন নিয়েই এসব কর্মকান্ড সংঘটিত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে মানবাধিকারের প্রসারে গত বছর এই দপ্তরে আমি কাজ করেছি। দপ্তরের এই অভিপ্রায় এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজের প্রতি আমার দৃঢ় বিশ্বাস আছে। কিন্তু এমন একটি সরকার, যারা সরাসরি এমন বিষয়কে সহায়তা করছে, যা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত বলেছেন, গাজায় গণহত্যা ঘটে থাকতে পারে, তাদের প্রতিনিধি হয়ে এ ধরনের (মানবাধিকার নিয়ে) কাজ করে যাওয়াটা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ ধরনের নৃশংসতাকে সহায়তা করে এমন প্রশাসনের অধীন কাজ করতে অসমর্থ হয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমার পদ থেকে আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
