রাতের আঁধারে পাকুন্দিয়া মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট- এলাকাবাসীর ক্ষোভ প্রকাশ

 

আবু হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার, পাকুন্দিয়া, কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় রাতের আঁধারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কার্যালয়ের একাংশ ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। একই সঙ্গে কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, আসবাবপত্র ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) গভীর রাতে পৌর সদরের উপজেলা ডাকবাংলোর সামনে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

মুক্তিযোদ্ধারা জানান, স্বাধীনতার পর থেকেই স্বাস্থ্য বিভাগের জায়গায় অবস্থিত আধাপাকা টিনশেড ভবনটি মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে কার্যালয়টি ব্যবহৃত হলেও এ নিয়ে কখনো কোনো জটিলতা সৃষ্টি হয়নি। তবে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভবনের পূর্বাংশ সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলে। পাশাপাশি পশ্চিমাংশের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আলমারি ভাঙচুর করে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন মজনু জানান, শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে তিনি কার্যালয়ের ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখতে পান।
তিনি বলেন, “দুর্বৃত্তরা কার্যালয়ের পূর্বাংশ গুঁড়িয়ে দিয়েছে। পশ্চিমাংশের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দুটি স্টিলের আলমারি থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও কাগজপত্র নিয়ে গেছে। এছাড়া ২২টি চেয়ার, দুটি সেক্রেটারিয়েট টেবিল, দুটি সিলিং ফ্যান, চারটি টিউবলাইট এবং বিদ্যুতের মিটার খুলে নিয়ে যায়। অন্যান্য আসবাবপত্রও ভাঙচুর করে তছনছ করে ফেলে রাখা হয়েছে।”তিনি আরও বলেন, “রাতের অন্ধকারে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানা যায়নি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।”
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাস বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
মুক্তিযোদ্ধাদের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন নাগরিকরা।

জানা যায়, এ বিষয়ে এলাকাবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনার অনুরোধ জানান।

Share This