কাঠগড়ায় কাঁদলেন আনিস আলমগীর

কাঠগড়ায় কাঁদলেন আনিস আলমগীর

পঙ্​ক্তি ডেস্ক: দুদকের মামলায় গ্রেফতার দেখানোর পরে আদালতের কাঠগড়ায় কাঁদলেন আলোচিত সাংবাদিক আনিস আলমগীর। এ সময় তার আইনজীবীরা সান্ত্বনা দেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত দুদকের আবেদন নিয়ে আনিস আলমগীরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তার আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি ও অন্যরা এ তথ্য জানান।

নাজনীন নাহার আদালতকে বলেন, আনিস আলমগীরের মামলায় তার যে ঠিকানাটা এখানে দেওয়া হয়েছে, সেটা আগের ঠিকানা। ঠিকানাটা আছে সেখানে তিনি থাকেন না। এ জন্য আদালতের কাছে সেটি পরিবর্তন করতে আবেদন করছি।

এদিন সকালে আনিস আলমগীরকে আদালতে হাজির করা হয়। সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কাঠগড়ায় ছিলেন তিনি। পরে দুদকের মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। কাঠগড়ায় থাকা অবস্থায় আনিস আলমগীকে মাঝে মাঝে তার আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। আজ আইনজীবীরা আনিস আলমগীরের পক্ষে কোনও জামিন শুনানি করেননি।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কারাগারে থাকা আনিস আলমগীরকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয় গত ২৫ জানুয়ারি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান এ আবেদন করেন।

গত ১৫ জানুয়ারি আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করে দুদক। মামলার অভিযোগে বলা হয়, আনিস আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হিসেবে তার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ফলে মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা। আনিস আলমগীরের বৈধ আয়ের উৎস থেকে মোট আয় পাওয়া গেছে ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। এর মধ্যে অতীত সঞ্চয় ৫৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮২১ টাকা, টক শো ও কনসালটেন্সি থেকে আয় ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টাকা, প্লট বিক্রি থেকে ২২ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদ বাবদ ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ হিসাবে তার ঘোষিত ও গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়া যায়; যা মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ এবং তা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে করা হয়।

গত ১৪ ডিসেম্বর জুলাই রেভুলেশনারি এলায়েন্সে সংগঠক আরিয়ান আহমেদ বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন। এতে আনিস আলমগীর ছাড়াও অভিনয়শিল্পী মেহের আফরোজ শাওনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় ১৫ ডিসেম্বর আনিস আলমগীরের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

ওই মামলার অভিযোগে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফলে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। কিন্তু তার অনুসারীরা দেশের মধ্যে বিভিন্ন কৌশলে ঘাপটি মেরে অবস্থান করে দেশের অস্থিতিশীল ও রাষ্ট্রের অবকাঠামোকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র করে আসছেন। আসামিরা আগে থেকে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় রয়েছে। তারা গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন টকশোতে নিষিদ্ধ সংগঠনকে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে আসছে। ১৪ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে আরিয়ান আহমেদ উত্তরা পশ্চিমের বাসায় বসে মোবাইল ফোনে দেখতে পান, আসামিরা ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুর্নরবাসন করার পায়তারা করছেন। তাদের বিভিন্ন পোস্টের ফলে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা অনুপ্রাণিত হয়ে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও রাষ্ট্রের অবকাঠামোকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রের ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে আসছে।

Share This