
পরিবেশবান্ধব নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে : ডিএনসিসি প্রশাসক
জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না/শ্রাবন আহমেদ:
সহনশীল ও মানবিক ঢাকা গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেছেন, সবার মতামতের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক উপায়ে পরিবেশবান্ধব নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবে ডিএনসিসি। আজ রাজধানীর গুলশানে উত্তর নগর ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে সিটির নবনিযুক্ত প্রশাসক এ কথা বলেন।
প্রথমে গুলশান নগরভবনের নিচতলায় প্রবেশপথের দেয়ালে স্থাপিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অমর স্মৃতি’ শিরোনামে একটি ফটো গ্যালারির উদ্বোধন করেন তিনি। সেখানে ছবির মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হয়েছে।
মতবিনিময়কালে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান, সচিব (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগে. জেনা. মো. মঈন উদ্দিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগে. জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এ বি এম সামসুল আলম, জনসংযোগ কমকর্তা মকবুল হোসাইনসহ সিটি কর্পোরেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ঢাকার দখল হয়ে যাওয়া জমি, খেলার মাঠ উদ্ধার করে সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করার জন্য ইতোমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক সুপারিশ নিয়ে কোন সুবিধা নেয়ার সুযোগ না থাকার কথা উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, বিড়ম্বনা এড়াতে প্রধান সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করতে কার্যকরী ভূমিকা নিতে চায় উত্তর সিটি করপোরেশন। কিন্তু ৪০ লাখ অটোরিকশা চালকের পরিবারের কথা বিবেচনা করে বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হবে।
প্রশাসক জানান, দখল হওয়া খালগুলো পুনরুদ্ধার করে পানি প্রবাহের উপযোগী করা হবে। আর এটা পর্যবেক্ষণের জন্য স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। তাতে আগামী বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সহনীয় পর্যায়ে থাকবে বলে তিনি আশাবাদী ব্যক্ত করেন।
অনলাইনে ঘরে বসে যাতে নগরবাসী নিজেদের জন্মনিবন্ধন ও সংশোধনের কাজ করতে পারেন এ জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ছাড়া নিয়ম বহির্ভূত নিয়োগ ও পদন্নোতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান। মোহাম্মদ এজাজ বলেন, রোজার মাসে খাদ্যের ভেজাল নিয়ন্ত্রণে, নিরাপত্তা জোরদারে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ ও রোজার পর রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধ থাকা বাধ্যতামূলক করা হবে।
তিনি বলেন, রাজধানীর মূল সড়কগুলোতে কোনো ধরনের পোস্টার ব্যানার লাগানো যাবে না। মূল সড়কে পোস্টার লাগালে এগুলো অপসারণ করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আর্থিক শাস্তি আরোপ করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মগবাজারসহ নগরের বিভিন্ন এলাকার জলাবন্ধতা দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করবেন।
সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন’ ‘মোহাম্মদপুরের বছিলায় হাইক্কার খাল উদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সরেজমিনে গিয়েছি। সীমানা নির্ধারণ ও উচ্ছেদ শুরু হয়েছে। হাইক্কার খালটি পূর্বের ন্যায় রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধসংলগ্ন কবরস্থানের মধ্য দিয়ে লাউতলা খাল ও রামচন্দ্রপুর খালের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।’
এসময় তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমি দায়িত্ব নিয়ে উত্তরখান এলাকায় গিয়েছি। ৩টি স্থানে সীমানা নির্ধারণ ও উচ্ছেদ করে ১টি পার্ক, ১টি খেলার মাঠ ও ১টি কমিউনিটি কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। পার্কটি নির্মাণ হবে তেরমুখ ব্রীজের পাশে। আমাইয়া, কাঁচকুড়ায় একটি মাঠ ও একটি কমিউনিটি কমপ্লেক্স নির্মাণ হবে।’
ডিএনসিসির কার্যক্রম পরিচালনায় তিনটি অবৈতনিক উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। বায়োডাইভারসিটি (জীববৈচিত্র্য) কমিটি, ডায়াসপোরা (প্রবাসী) কমিটি এবং সাধারণ কমিটি।
