সাংবাদিকদের ঐক্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কার ও সমাজে পরিবর্তন আসবে

সাংবাদিকদের ঐক্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কার ও সমাজে পরিবর্তন আসবে

পঙ্​ক্তি ডেস্ক:  বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বলেছেন, সাংবাদিকদের ঐক্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কার ও সমাজে পরিবর্তন আসবে। ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। আজ শনিবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর পল্টনস্থ ফারস হোটেল এণ্ড রেস্টুরেন্টে ঢাকায় কর্মরত কিশোরগঞ্জ জেলার সকল সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকাস্থ কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরাম আয়োজিত অনুষ্ঠানে  ‘নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুস সালাম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, ‘আমার পৈতিক নির্বাস কিশোরগঞ্জে। তাই বার বার আপনাদের যেকোনো অনুষ্ঠানে আমি ছুটে আসি। আমি বিশ্বাস করি, আপনারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করলে রাষ্ট্র সংস্কার ও সমাজে পরিবর্তন আসবে। সাংবাদিকেরা জাতির আয়না স্বরূপ, তারা জাতিকে যাহা দেখাবে তাহাই জাতি গ্রহণ করবে। দেশের মানুষকে শান্তিতে রাখা ও সঠিকপথ দেখানো একজন প্রফেশনাল সাংবাদিকের দায়িত্ব ও কতৃব্য। এ সময় কিশোরগঞ্জের সাংবাদিকদের কল্যাণে সব সময় পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষঅতিথি হিসেবে বক্তব্যে রাখেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরিফুল আলম, বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মোল্লা জালাল, বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংবাদিক সমিতির মহাসচিব উদয় হাকিম, জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জিএম মজিবুর রহমান ভুঁইয়া সবুজ

অনুষ্ঠানে শরিফুল ইসলাম বলেছেন, ‘নিজের জন্মভূমিকে সব সময় প্রধান্য দেওয়া উচিত। জন্মভূমি প্রতিটি মানুষের কাছে সবচেয়ে আপন এবং প্রিয় স্থান। এটি আমাদের শিকড়, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং পরিচয়ের অংশ। জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং কর্তব্যবোধ থাকা প্রত্যেক নাগরিকের জন্য অপরিহার্য। কিশোরগঞ্জের সন্তান হিসেবে আমি গর্বিত। আমরা যারা নিজের যোগ্যতায় আজকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছি,তারা প্রত্যেকেই যেন নিজের জেলার প্রতিটি মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাড়াই। তিনি আরও বলেন, সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলুন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংবাদ মাধ্যমকে বলা হয় জাতির বিবেক ও জাতির আয়না। আমাদের অনুরোধ সাদাকে সাদা বলতে হবে আর কালোকে কালো। যদি আমিও কালো হই তাহলে কালোই বলবেন আমাকে ছাড় দেবেন না। যে বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে এদেশের ছাত্র-জনতা আন্দোলন করেছে, জীবন দিয়েছে, তাদের আমরা যেন অসম্মানিত না করি। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই-যে বাংলাদেশে কোন বৈষম্য থাকবে না, ভেদাভেদ থাকবে না। এমন একটি রাষ্ট্র চাই-যে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা। দেশের যেসব মানুষের সামর্থ থাকবে না, তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেবে এই রাষ্ট্র। এমন একটি রাষ্ট্র চাই যেখানে অফিস, আদালত, কোর্ট, কাচারি-কোথাও ঘুস বাণিজ্য থাকবে না, যেখানে কোন চাঁদাবাজ ও দখলদারিত্ব থাকবে না। আমাদের মা বোনেরা তাদের ইজ্জতের সঙ্গে বসবাস করবে। আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ চাই-যে বাংলাদেশে প্রত্যেকটি মানুষ প্রত্যেকটি মানুষকে শ্রদ্ধা করবে।’

সভাপতির বক্তব্যে এরফানুল হক নাহিদ বলেন, ‘কিশোরগঞ্জের সামগ্রিক উন্নয়নে এই ফোরামের সাংবাদিকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। আগামীতে এই কমিটি সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করবে। একইসঙ্গে ঢাকায় আমরা একটি স্থায়ী কার্যালয় করার চিন্তা-ভাবনা করছি। সকলের সহযোগিতা নিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে চাই,যোগ করেন তিনি। এ সময় সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর কিরণ বলেন, আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকলে অচিরেই কিশোরগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ফোরামের স্থায়ী কার্যালয় হবে। এ জন্য অন্তর থেকে আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন এবং পাশে থাকবেন।

এ সময় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, ফোরামের সাবেক সভাপতি রাজেন্দ্র চন্দ্র দেব মন্টু, সিনিয়র সহ-সভাপতি হামিদ মোহাম্মদ জসিম,  কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার সহসভাপতি ও দৈনিক জনতার সিনিয়র রিপোর্টার সফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক এম শাহজাহান, দৈনিক যুগান্তরের মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ ও দপ্তর সম্পাদক যোবায়ের আহসান জাবের, দৈনিক ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আবুল হাছান, ফোরামের নির্বাহী সদস্য ইব্রাহিম খলিল খোকন, জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, মোস্তাক আহমেদ লিটন প্রমুখ। এছাড়াও ময়মনসিংহ সাংবাদিক সমিতির আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন, নেত্রকোনা সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার সভাপতি রফিক মোহাম্মদ, জামালপুর সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার এম মনিরুল আলম, ঢাকা সাব এডিটর কাউন্সিলর সাবেক সভাপতি কেএম শহিদুল হক, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি হাফিজুর রহমান হীরা, ঢাকাস্থ ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাসির উদ্দিন ভূঁইয়া রতন, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফজলে এলাহী আরিফ, শিল্পপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা আমিনুল ইসলাম সুজন,

অনুষ্ঠানে কোরআন তেলাওয়াত করেন সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ এনায়েত উল্লাহ। অনুষ্ঠানে সাতজন গুণী সাংবাদিককে সম্মাননা দেওয়া হয়। তারা হলেন মৃনাল কৃষ্ণ রায়, আরএম দেবনাথ, আজিজুল হক এরশাদ, মনোজ রায়, মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, রাজেন্দ্র চন্দ্র দেব মন্টু। একটি জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নব নির্বাচিত কমিটিকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়।

Share This