প্রসঙ্গত, নির্বাচনের মাত্র একমাস আগে মায়ের মৃত্যুর পর দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান। তবে দীর্ঘ পথ পথপরিক্রমায় তার চলার পথ কুসুমাস্তীর্ণ ছিলে না। বন্ধুর পথ অতিক্রম করেই তাকে এতটুকু আসতে হয়েছে। মামলার বোঝা নিয়ে দেশান্তরী হওয়া রিমান্ড, কারাগার ও নির্বাসনে থেকে দেশ পরিচালনা সব মিলিয়ে এক কঠিন পথ পাড়ি দিয়েই রাষ্ট্র ক্ষমতার শীর্ষে আরোহন করলেন।
বাংলাদেশে ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে আটক হয়েছিলেন তারেক রহমান। এরপর ১৮ মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি পেয়ে সপরিবারে লন্ডনে চলে গিয়েছিলেন তিনি। প্রায় ১৭ বছর পর তিনি ঢাকায় ফিরে এসেছেন গত ২৫ ডিসেম্বর।
বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় সন্তান। তিনি ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। বিএনপির নিজস্ব ওয়েবসাইটেও তার এই জন্মতারিখই রয়েছে। যদিও তার নির্বাচনি হলফনামায় বলা হয়েছে যে তিনি ১৯৬৮ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেছেন।
ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজে প্রাথমিক পড়াশোনা শেষে করে আশির দশকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন বলে তার দলের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু তিনি সেখানে পড়াশোনা শেষ করেছিলেন কী-না সেই সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আর নির্বাচন কমিশনে এবার যে হলফনামা তারেক রহমান জমা দিয়েছেন তাতে শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘উচ্চ মাধ্যমিক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএনপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের সময় আরও অনেক সামরিক কর্মকর্তা পরিবারের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের পরিবারকেও বন্দি করা হয়েছিল। তখন তাদের দুই ছেলে তারেক রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমানও বন্দি ছিলেন।
আরও জানা যায়, সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি যোগ দিয়েছিলেন এবং ১৯৮৮ সালে বগুড়া জেলা বিএনপির গাবতলী উপজেলা ইউনিটের সদস্য হিসেবে তিনি আনুষ্ঠানিক বিএনপিতে সক্রিয় হন।
যদিও দলের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন— তারেক রহমানের দলীয় রাজনীতির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে এবং সেই সময় খালেদা জিয়া যে পাঁচটি আসনে নির্বাচন করেছিলেন তিনি সেগুলোর দেখভালের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।