
রমনা পার্কে অব্যবস্থাপনা ও নিষিদ্ধ কার্যক্রম: সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন, আইন বাস্তবায়নের জোর দাবি!
এস.এম. আলী আহসান: ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত রমনা পার্ক দীর্ঘদিন ধরেই নগরবাসীর জন্য একমাত্র মুক্ত বাতাসের নিশ্বাস নেওয়ার স্থান হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে অসংখ্য মানুষ এখানে হাঁটতে, বিশ্রাম নিতে কিংবা প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে আসেন। তবে সম্প্রতি এই পার্কে কিছু অনিয়ম এবং নিষিদ্ধ কার্যক্রম আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। যা বন্ধ না করলে রমনার সৌন্দর্য বিঘ্নিত হবে। তাই সাধারণ মানুষ বিদ্যমান আইন বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা অবাদে রমনায় সময় কাটায়। যা একটি প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন।
হকার ও বিক্রেতাদের দখল:
নিয়ম অনুযায়ী রমনা পার্কে হকার প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পার্কের প্রতিটি প্রবেশপথ, হাঁটার পথ এমনকি বেঞ্চের আশপাশে দেখা যাচ্ছে ফুল বিক্রেতা, বাদাম ও চা-কফি বিক্রেতাদের সরব উপস্থিতি। এরা অনেক সময় জোর করে পণ্য বিক্রির চেষ্টা করে, যা সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য বিরক্তিকর হয়ে উঠছে।
ভিক্ষুক ও অনুপ্রবেশকারীদের উৎপাত:
পার্কজুড়ে ভিক্ষুকদের আনাগোনা বেড়েছে লক্ষণীয়ভাবে। তারা অনেক সময় চলমান মানুষের পিছু নিয়ে অনবরত টাকা চেয়ে থাকেন। এতে পার্কের পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য ব্যাহত হচ্ছে।
বেঞ্চ দখল ও অবৈধ ব্যায়াম কার্যক্রম:
রমনা পার্কের অন্যতম আকর্ষণ হলো এর ছায়াঘেরা বেঞ্চ ও বসার জায়গাগুলো। তবে বর্তমানে অনেক অংশে কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বেঞ্চ দখল করে সেখানে ইয়োগা, ব্যায়াম কিংবা দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। পার্ক কর্তৃপক্ষের নিষেধ থাকা সত্ত্বেও এই কর্মকাণ্ড রোধে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের অনুপ্রবেশ :
স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের পার্কের ভিতরে প্রবেশ নিষেধ থাকলেও যত্রতত্র তাদের ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায়।এতে করে এদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ঝুঁকির সম্মুখীন।
ড্রোন ও ক্যামেরা ব্যবহারে নিরাপত্তা ঝুঁকি:
সম্প্রতি ড্রোন উড়ানোর মতো কর্মকাণ্ডও চোখে পড়েছে, যা নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ। সরকারিভাবে পার্কের আকাশে ড্রোন চালানো নিষিদ্ধ হলেও কেউ কেউ এই নিয়মকে তোয়াক্কা না করে পার্কের ভেতরে ভিডিও ও ছবি তুলছে। এতে সাধারণ মানুষের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের ক্ষোভ:
নিয়মিত হাঁটতে আসা একজন প্রবীণ বলেন, “আগে এই পার্কে নিরিবিলিতে হাঁটতাম, এখন চারদিকে হকার, ভিক্ষুক আর ব্যায়ামকারীদের ভিড়ে হাঁটার জায়গা পাই না। পার্কটা যেন বাজারে পরিণত হয়েছে।”
করণীয়
• পার্কে প্রবেশে নিরাপত্তা জোরদার করা
• হকার ও অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা
• বেঞ্চ ও উন্মুক্ত জায়গায় দলীয় বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা
• ড্রোন ও ভিডিও ধারণের ক্ষেত্রে অনুমতির নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ
• সাধারণ মানুষের জন্য পার্কের পরিবেশ ফেরাতে সিটি করপোরেশন ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ
রমনা পার্ক রাজধানীবাসীর জন্য এক বিশাল আশ্রয়স্থল। এটির পরিবেশ ও নিরাপত্তা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত, দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পার্ককে আবারও আগের মত সুন্দর, নিরাপদ ও সবার জন্য উপযোগী করে তোলা। এ প্রসঙ্গে একাধিক নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেন, রমনার একাধিক গেইট রয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা জোর করে ঢুকে যায়। নিজেদেরকে জুলাই আন্দোলনকারী পরিচয় দেয়। তাই কঠোর পাহাড়া দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাদিক পথচারী বলেন, তারা নিয়মিত রমনায় ব্যায়ম করতে আসেন। রমনার পরিবেশ ধরে রাখতে হলে হকার বন্ধ করতে হবে। ছাত্র ছাত্রীদের ঢুকতে দেয়া যাবে না। বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে পালন করতে হবে। তবেই রমনার পরিবেশ সুন্দর থাকবে।
