
আমাদের দায়িত্ব পালন করতে না দিলে সমাজটাই শেষ হয়ে যাবে: আইজিপি
পঙ্ক্তি ডেস্ক: বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, ‘একটি সভ্য দেশ পুলিশ ছাড়া কীভাবে চলবে? পৃথিবীর কোথায় আছে, পুলিশ ছাড়া চলে? পৃথিবীর কোথাও এটা নাই, এই দেশের মানুষকে এটা বুঝতে হবে, যারা বুদ্ধিমান, তারা অবশ্যই বোঝেন। তবে কিছু লোক আছে, তারা মনে করে পুলিশ এখন আইন প্রয়োগ করতে যাচ্ছে, পুলিশ তাদের প্রতিপক্ষ। দেশের অপরাধ যদি দমন করা না হয়, শৃঙ্খলা যদি না হয় কোন নাগরিকটা থাকতে পারবে, এই ১৮ কোটি লোকের একটা লোকে ঘুমাতে পারবে? আপনারও তো খেয়াল করেছেন, যখনই অপরাধ বেড়ে যায় তখন কি রকম শুরু হয়। তখন রাত জেগে নিজেদেরকে সারা রাত পাহারা দিতে হয়। এই দায়িত্বটুকু আমার। এখন যদি দেশের কিছু লোক আমাকে যারা ভুল বোঝে, আর তারা যদি আমাকে দায়িত্ব পালন করতে না দেয়, তাহলে পুরো সমাজটাই শেষ হয়ে যাবে। এই জিনিসটা তাদের বুঝতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) সকাল ১০টায় গাজীপুর মহানগরীর মোঘরখাল (ভোগড়া বাইপাস) শিল্পাঞ্চল পুলিশ-২ কার্যালয়ে বিশেষ কল্যাণ সভায় প্রধান অতিথির তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (শিল্প পুলিশ) ছিবগাত উল্লাহর সভাপতিত্বে কল্যাণ সভায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) কমিশনার ড. নাজমুল করিম খানসহ পুলিশের অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শিল্প পুলিশ ও শ্রমিকদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, ‘আপনারা (শিল্প পুলিশ) নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এ যাত্রায় আমরা সঙ্গে পেয়েছি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে, বিশেষ করে নবম পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে আমাদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আপনারা জানেন, শ্রম মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফেব্রুয়ারি মাসের বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাস ও মার্চ মাসের আংশিক বেতন ২০ রমজানের মধ্যে পরিশোধ করবে। আপনাদের মাধ্যমে আমি সব শ্রমিক ভাই ও বোনদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, তাদের এই ন্যায়সঙ্গত পাওনা আদায়ের জন্য সব পক্ষের সঙ্গে আমরা আলোচনায় আছি এবং আপনাদের পাশে থাকবো।’
বাহারুল আলম বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে ঢাকা থেকে লাখ লাখ মানুষ বাড়িতে যাবেন। তাদের এই আনন্দ যাত্রায় যেন বিঘ্ন না ঘটে তার জন্য শিল্প পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শ্রমিক ভাইবোনদের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা দাবি আদায়ের জন্য রাস্তা আটকাবেন না। তাহলে লাখ লাখ মানুষের দুর্ভোগের কারণ তৈরি হবে। আপনারা তাদের বছরের একটি আনন্দ যাত্রায় বিঘ্ন হয়ে দাঁড়াবেন না। এ ধরনের কার্যকলাপ যেই করবেন আমি দৃঢ় কণ্ঠে বলছি, আমরা এ বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেবো।
