পাঁচ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু: পাঠ্যবইয়ে যুক্ত ও দিবস ঘোষণার দাবি

পাঁচ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু: পাঠ্যবইয়ে যুক্ত ও দিবস ঘোষণার দাবি

ইতিহাসের এই ভয়াবহ ও মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের এই দিনটি এখনও অনেকেরই অজানা। বিভিন্ন স্থানে পুঁতে রাখা মাইন ও গোলাবারুদ উদ্ধার করতে গিয়ে বিস্ফোরণে নিহত হয়েছিলেন এসব মুক্তিযোদ্ধা। তাদের স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে ৬ জানুয়ারি স্মৃতি পরিষদ প্রতিবছরই নানা কর্মসূচি পালন করে। এবারও তারা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। তাদের দাবি, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এই ঘটনাটিকে পাঠ্যপুস্তকে অর্ন্তভুক্ত করার। যাতে করে আগামী প্রজন্ম দেশের অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধাদের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে।

এতবড় দুর্ঘটনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিষয়টি পাঠ্যপুস্তকে অর্ন্তভুক্ত করা ও জাতীয়ভাবে দিবসটি পালন করার দাবি জানিয়ে আসছেন ৬ জানুয়ারি স্মৃতি পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

দিনাজপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও ৬ জানুয়ারি স্মৃতি পরিষদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল হক ছুটু বলেন, ‘সেদিন বিকট শব্দে পুরো শহর কেঁপে ওঠে। দুর্ঘটনার পর আমি ছুটে যাই ঘটনাস্থলে। সেখানে জীবিত ও নিহতদের উদ্ধার করেছিলাম সকলে মিলে। পরে আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করি। সেদিন মাইন বিস্ফোরণে কতজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা যায়নি। তবে সকালের রোলকলে উপস্থিত ছিলেন ৭৮০ জন মুক্তিযোদ্ধা। দুর্ঘটনার আগে ৫০ থেকে ৬০ জন মুক্তিযোদ্ধা ছুটি নিয়ে ক্যাম্প ত্যাগ করেছিলেন। অনুমান করা হয় যে সেদিনের ঘটনায় সাড়ে ৪ শতাধিক এবং পরে আহতাবস্থায় যারা হাসপাতালে ছিলেন তাদের মধ্যেও অনেকেই মারা গিয়েছিলেন। সেই হিসেবে সেদিনের ঘটনায় ৫ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হয়েছিল। এ ছাড়াও ওই এলাকায় বসবাসরত ১৫ জন মানুষও মারা গিয়েছিলেন।’

৬ জানুয়ারি স্মৃতি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক আজহারুল আজাদ জুয়েল বলেন, ‘দিবসটি পালন করা হয় যথাযোগ্য মর্যাদায়। শহীদদের স্মৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই আমরা একটা দাবি জানিয়ে আসছি যে, ইতিহাসের এতবড় একটি ঘটনা অবশ্যই যাতে করে পাঠ্যপুস্তকে অর্ন্তভুক্ত করা হয়। এতে করে আগামী প্রজন্ম মুক্তিযোদ্ধাদের এত বড় আত্মত্যাগের কথা জানতে পারবে। একই সঙ্গে দিবসটি যাতে জাতীয়ভাবেও পালন করা হয় সেই দাবিও করেছি আমরা।’

Share This